সৌদি আরবে পাড়ি জমানোর কথা ছিল আগামী ৭ জানুয়ারি। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে ঘরে স্ত্রী ও এক বছরের পুত্র সন্তান রেখে শ্যালিকাকে নিয়ে উধাও হয়েছেন দুলাভাই। ঘটনাটি কোনো সিনেমার কাহিনি নয়, বরং বাস্তবের এক চাঞ্চল্যকর পরকীয়া প্রেমের গল্প।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে পুরো দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম খানের ছেলে শাকিব খানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফতেপুর গ্রামের রাজ্জাক গাজীর মেয়ে সালমা আক্তার। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে হোসাইন নামে এক বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
গত এক বছর ধরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী শাকিব খানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল সালমা আক্তারের। এ কারণে তিনি সন্তানসহ বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। একই সময়ে ঢাকা থেকে এসে সেখানে বসবাস শুরু করেন তার ২৪ বছর বয়সী ছোট বোন ফাতেমা আক্তার, যার সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য ভিসাসহ সব ধরনের কাগজপত্র সম্পন্ন ছিল। নির্ধারিত তারিখ ছিল আগামী ৭ জানুয়ারি।
এরই মধ্যে ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
ভুক্তভোগী সালমা বেগম জানান, গত ২৫ ডিসেম্বর সকাল আটটার দিকে বরিশাল যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তার স্বামী শাকিব খান। মাত্র পাঁচ মিনিট পর পাখিমারা এলাকায় খালার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যায় তার ছোট বোন ফাতেমা। এরপর থেকে দুজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর সালমার মা শেফালি বেগম কলাপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে জানা যায়, শাকিব খান ও ফাতেমা আক্তার একসঙ্গে কলাপাড়া এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। বিষয়টি লোকমুখে জানাজানি হলে এরপর তারা দুজনই ফোন বন্ধ করে অন্যত্র চলে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সালমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শ্যালিকা ও স্বামীর মধ্যে স্বাভাবিক কথাবার্তা ও আচরণ দেখেই বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিলেন। ভেতরে যে এমন সম্পর্ক গড়ে উঠছিল, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। বর্তমানে এক বছরের শিশুকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তিনি। দোষীদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ভুক্তভোগীর মা শেফালি বেগম বলেন, “আমাদের বলার মতো কোনো ভাষা নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর থানায় ডায়েরি করেছি। তারা কলাপাড়ায় লুকিয়ে আছে জেনেও এখন ফোন বন্ধ করে রেখেছে।”
কলাপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফোরকান জানান, নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি পরকীয়া প্রেমঘটিত ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।