পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নীরব পালাবদলের ইঙ্গিত মিলছে। এক সময়ের আওয়ামী লীগের সক্রিয় ও ক্লিন ইমেজধারী ১৫ নেতাকর্মী সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের দলবদল শুধু সংগঠনগত পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং এটি তৃণমূল রাজনীতিতে আস্থার স্থানান্তরের ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠে যে পুনর্গঠন শুরু হয়েছে, এটি তারই এক প্রতিফলন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চাকামইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদমর্যাদার ১৫ নেতাকর্মী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেনের হাতে ফুল ও মালা পরিধান করে বিএনপিতে যোগ দেন। তারা জানান, “দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নিতে” তাঁরা বিএনপির পতাকাতলে এসেছেন।
যোগদানকারী নেতাকর্মীরা হলেন— আঃ রাজ্জাক হাওলাদার, মো. হানিফ, হারুন পাহলোয়ান, মতি হাওলাদার, জামাল হাওলাদার, আলমগীর হাওলাদার, মজিবুর রহমান মৃধা, নিজাম তালুকদার, মিজানুর রহমান, জয়নাল সরদার, নাসির হাওলাদার, আসুতোস তালুকদার, রত্তন তালুকদার, কেরামত হাওলাদার ও হানিফ ফকির।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতার মতে, এটি “ব্যক্তিগত স্বার্থনির্ভর কিছু পদক্ষেপ” এবং সংগঠনের জন্য বড় কোনো ধাক্কা নয়। তবে তাঁরা স্বীকার করেন,“দলের ভেতরে যোগাযোগের ঘাটতি ও দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা থেকে কিছু কর্মী দূরে সরে গেছেন।”
এর আগে গত সপ্তাহেও চাকামইয়া ইউনিয়নের আরও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ধারাবাহিক এ দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
তাঁদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে কলাপাড়া সবসময়ই নির্বাচনী তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। তাই এখানকার ছোট পরিবর্তনও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চিত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।