ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা মুন্সিরহাট হাইস্কুল মাঠে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন,
“আমি সারা বাংলাদেশ ঘুরে দেখেছি, এখন কিন্তু যেনতেনভাবে দিনকে রাত, রাতকে দিন বানানোর সুযোগ আর নেই। এখন বাংলাদেশের মানুষ সজাগ। হে চাঁদাবাজেরা, খুনিরা, স্টেশন দখলকারীরা — বাংলাদেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়ে গর্তে ফেলানোর সুযোগ আর তোমরা পাবে না।”
গণসমাবেশে তিনি ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মো. জিল্লুর রহমানকে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে ইসলামী শক্তির ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে রেজাউল করীম বলেন,
“আমরা যদি একাকার হই ইসলামের পক্ষে, দেশের কল্যাণের পক্ষে ও মানুষের কল্যাণের পক্ষে আওয়াজ তুলতে পারি, তাহলে এ দেশ হবে তামাম দুনিয়ার মধ্যে স্বর্ণের দেশ। কিন্তু যদি চাঁদাবাজ ও ধোঁকাবাজদের ধোঁকায় আবার পড়ি, তাহলে আমাদের চোখের পানি, মায়ের কলিজা ছিঁড়া চিৎকার বিফলে যাবে। আসুন, আমরা যারা ইসলামপ্রেমী, দেশপ্রেমী, সবাই এক হয়ে আগামী নির্বাচনে ব্যালট বাক্সে হাতপাখা পাঠাই। আল্লাহর রহমতে বিজয় আমাদের হবেই।”
রেজাউল করীম বলেন, দেশে এখন নীতি-আদর্শবানদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা গত ৫৩ বছরে ছিল না। তিনি বলেন,
“১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন করতে গিয়ে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য — বিশ্বসাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার — আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ৫৩ বছরে যারা দেশ পরিচালনা করেছে, তারা সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। আমরা স্বাধীন হয়েছি ঠিকই, কিন্তু পরাধীনতার মধ্যেই ৫৩ বছরের জীবন কাটিয়েছি।”
চরমোনাই পীর বলেন,
“আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নীতি আদর্শের শাসন আমরা দেখেছি। কিন্তু ইসলামী নীতি আদর্শের শাসন আমরা দেখিনি। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের সময় আপনারা দেখেছেন, ইসলামী নীতি আদর্শ লালনকারীরাই সংখ্যালঘুদের জানমাল, উপাসনালয় সংরক্ষণে পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন রাস্তায় ট্রাফিক না থাকলেও মানুষের কষ্ট লাঘবে আমরা দায়িত্ব পালন করেছি। অথচ একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল ব্যস্ত ছিল চাঁদাবাজি, লুটপাট ও স্টেশন দখলে। ওদের নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্বে শত শত নেতা–কর্মী নিহত হয়েছে। এমন অবস্থা কি আমরা দেখতে চাই?”
গণসমাবেশে উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, মাওলানা নুরুল করিম আকরাম প্রমুখ।