নিখোঁজের পর কৃষিবিদ মো. শহীদুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পটুয়াখালীর মহিপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় মহিপুরের খাপড়াভাঙ্গা সেতুর ওপর এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত শহীদুল ইসলামের পরিবার-পরিজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শহীদুলের বাবা আলহাজ মো. মতিউর রহমান বলেন,
“আমার ছেলে একজন মেধাবী কৃষিবিদ ছিল। তার কোনো শত্রু ছিল না। এভাবে নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধার হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না। আমি আমার সন্তানের হত্যার সঠিক বিচার চাই।”
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন মহিপুর এসআরওএসবি সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম সোহাগ, মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ফরিদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাজিব হাওলাদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহিপুর থানা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ মো. মিল্লাত, জামায়াতে ইসলামীর সদর ইউনিয়ন সভাপতি মো. তোফাজ্জেল হোসাইন সিপাহী এবং কমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাইয়ুম তানিম।
বক্তারা বলেন, একজন কৃষিবিদকে নির্মমভাবে হত্যা করা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং দেশের কৃষি গবেষণা ও মেধা উন্নয়নের জন্যও মারাত্মক ক্ষতির বার্তা বহন করে। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মতিউর রহমান শিবচর হাইওয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান,
“কৃষিবিদ শহীদুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।”
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রের (CIMMYT) রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর কৃষিবিদ মো. শহীদুল ইসলাম গত ২১ জানুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা থেকে বরিশালে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। পরে ২৩ জানুয়ারি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের তৃতীয় ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। বরিশালে বসবাস করলেও তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর মহিপুর থানার সেরাজপুর গ্রামে।