পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর খালের চরে মাটিচাপা অবস্থায় ফেরদৌস মুন্সি (৪০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মধুখালী সাপুড়িয়া খালের পাড় থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফেরদৌস মুন্সি ওই এলাকার রহমান মুন্সির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে অসুস্থ বাবাকে দেখে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মাহিনুর নামে স্থানীয় এক গৃহবধূ মধুখালী সেতুসংলগ্ন সাপুড়িয়া খালের পাড়ে কয়েকটি গাছের ডালের নিচে নতুন করে কাটা নরম মাটি দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি মাটি সরাতে গেলে মরদেহের একটি অংশ দেখতে পান এবং চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ফেরদৌস মুন্সী নিখোঁজ ছিলেন। আজ সকালে প্রথমে বাড়ি সংলগ্ন মধুখালী লেকের পাড়ে স্থানীয় লোকজন নতুন মাটির স্তূপ দেখতে পায়। এরপরে মাটি খুঁড়ে চাপা দেওয়া মৃতদেহ দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাওছার জানান, পারিবারিক জমি বণ্টন সংক্রান্ত একটি সালিশ শুক্রবার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফেরদৌসের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে সবাই তার সন্ধানে নামেন।
কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সমীর সরকার জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় রশি পেঁচিয়ে ফেরদৌসকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। রশিটি এখনও তার গলায় বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া তার বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল কাটা পাওয়া গেছে।
কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম জানান, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
নিহত ফেরদৌস মুন্সি বিবাহিত হলেও তার দাম্পত্য জীবন টেকেনি।বিবাহ বািচ্ছেদ হয় , তিনি নিঃসন্তান ছিলেন এবং সাংসারিক কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।