পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক কৃষকের রোপণ করা ইরি ধান জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বাদী মো. দুলাল হাওলাদার (৫০), পিতা—মো. কালা মিয়া হাওলাদার, সাং—তুলাতুলি, বালিয়াতলী ইউনিয়ন, কলাপাড়া, পটুয়াখালী। তিনি অভিযোগ করেন, তার পিতা এসএ ৭৯, ১৬৭ ও ২৩৫ নং খতিয়ানে মোট ৬.৫০ একর জমির বৈধ মালিক। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে ওই জমিতে বসতঘর নির্মাণ, পুকুর খনন, গাছ রোপণ ও চাষাবাদ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
প্রতি বছরের ন্যায় চলতি মৌসুমেও তিনি “হামজা” মেশিন দিয়ে জমি চাষ করে ৪৯ শতাংশ জমিতে ইরি ধান রোপণ করেন। কিন্তু ঘটনার দিন অভিযুক্ত মো. নাসির মৃধা, মো. নুরু মুন্সি, মো. শহিদুল গাজী, মো. রব মিয়া, মো. পারভেজ মুন্সী, মো. মনির, মো. আলাউদ্দিন সরদার, মো. ইসা, মো. সালাম মুন্সী, মো. রাজিব মুন্সীসহ ৪০–৪৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার জমিতে প্রবেশ করে।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা লাঠিসোঁটা, দা, রামদা, ছেনা ও লোহার রড দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে ধান কাটার মেশিন ব্যবহার করে জমির ইরি ধান কেটে ট্রাক ও ট্রলিতে তুলে নিয়ে যায়। এতে তার প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর ২০২৫) কলাপাড়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সি.আর মামলা দায়ের করেন দুলাল হাওলাদার। মামলার নম্বর—১১১২/২০২৫ এবং ধারাসমূহ—৩৭৯/৪৪৭/৩৮৫/৩৮৬/৫০৬/১০৯। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসী আতঙ্কে থাকায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। এদিকে ভুক্তভোগী দুলাল হাওলাদার তার পরিবারের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।