খাল-নদী বেষ্টিত উপকূলীয় জনপদ কলাপাড়ায় খাল দখল, ভরাট ও দূষণে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে মিঠা পানির উৎস। কৃষি ও মৎস্যনির্ভর এই অঞ্চলে বর্তমানে চাষাবাদ ও গৃহস্থালি কাজে দেখা দিয়েছে পানির তীব্র সংকট।
এই বাস্তবতা তুলে ধরে সোমবার বিকেলে আন্ধারমানিক নদীর তীরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন কলাপাড়া এবং আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন “ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)” সংগঠনের সমন্বয়কারী মেজবাউদ্দিন মাননু। উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম, সমন্বয়কারী পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন কলাপাড়া এবং নাজমুস সাকিব, সভাপতি আমরা কলাপাড়াবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত কয়েক দশকে খাল ভরাট ও দখলের কারণে কলাপাড়ার অন্তত দুই শতাধিক খাল নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অনেক খাল ভূমি অফিসের নথিতে কৃষি জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। ফলে কৃষকরা সেচের কাজে খালের পানি ব্যবহার করতে পারছেন না।
বক্তারা অভিযোগ করেন, খালপাড়ের জমি দখল করে প্রভাবশালী মহল ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের নির্মাণ করেছেন। কলাপাড়া পৌরসভার বাদুরতলী খাল ও কুয়াকাটা পৌরসভার মাঝিবাড়ি এলাকার খাল এর স্পষ্ট দৃষ্টান্ত। বাদুরতলী খালের দুই পাশে এখন অসংখ্য ভবন গড়ে উঠেছে, আর কুয়াকাটার লতাচাপলী মৌজার সরকারি খাস খাল ভরাট করে নবোদয় হাউজিং নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠান দখল নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১১ সালে কলাপাড়ার ৮৮টি খাল পুনর্খননের সুপারিশ করলেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক খাল উপেক্ষিত থেকে গেছে। কৃষক ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি।
বক্তারা বলেন, দখল-দূষণ রোধ ও মিঠা পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধারে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
ইউনিয়নভিত্তিক সকল খালের তালিকা প্রণয়ন
এসএ নক্সা অনুযায়ী খালের সীমানা চিহ্নিতকরণ
খাল দখল ও দূষণ রোধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ
সুইস সংযুক্ত খালের নিয়ন্ত্রণ প্রকৃত কৃষকের হাতে ন্যস্ত করা
মাছ চাষের নামে খাল লিজ প্রদান বন্ধ রাখা
খালে লোনা পানির প্রবেশ বন্ধে সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ
বক্তারা আরও বলেন, “খাল শুধু কৃষির উৎস নয়, কলাপাড়ার জীবন ও সংস্কৃতির অংশ। খাল রক্ষা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন রক্ষা।”
এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।