২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও ইলিশ আহরণে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ সমগ্র উপকূলজুড়ে। শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাজারো মাঝি-মাল্লা।
দীর্ঘ প্রায় তিন সপ্তাহের অপেক্ষার পর আবারও সমুদ্রে জাল ফেলতে পারার আনন্দে উচ্ছ্বসিত জেলেরা। কলাপাড়ার মহিপুর, আলীপুর, লতাচাপলী, ধুলাসার, চম্পাপুর ও কুয়াকাটার মাছঘাটগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্রলার মালিক ও জেলেরা। কেউ নৌযানের ইঞ্জিন ঠিকঠাক করছেন, কেউবা নতুন জাল প্রস্তুত করছেন—সব মিলিয়ে উপকূলজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর প্রথম কয়েকদিনই সাধারণত প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। তাই তারা বাজারে পর্যাপ্ত বরফ, সংরক্ষণাগার ও পরিবহন ব্যবস্থা ঠিকঠাক রাখছেন।
তবে জেলেরা বলছেন, সমুদ্রে নামতে উচ্ছ্বাস থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম, বরফ ও নৌযান মেরামতের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের লাভের হিসাব কমে গেছে। তবুও সংসারের মুখে হাসি ফেরাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে নামতে তারা প্রস্তুত।
মহিপুর মৎস্যঘাটের ট্রলার মালিক মনির হাওলাদার বলেন, “২২ দিন সমুদ্রে যেতে না পেরে সবাই কষ্টে ছিলাম। এখন আশা করছি সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ পাবো।”
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ সময় মাছ ধরার ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হয়।
নিষেধাজ্ঞা শেষে এখন আবারও জেলেদের নৌকা ভরবে আশার আলোয় ধরা পড়া ইলিশে।