তদারকির অভাবে কলাপাড়ায় সরকারের ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর কার্যক্রম ভেস্তে যেতে বসেছে। ফ্যামিলি কার্ড সক্রিয় না থাকার অজুহাতে দুই-তৃতীয়াংশ উপকারভোগী পরিবার নিত্যপণ্যের এই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যও ভেস্তে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে কলাপাড়া পৌরসভার সামনে গিয়ে দেখা যায়, টিসিবির পণ্যবাহী একটি মিনি ট্রাক জনশূন্য অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ডিলার ও কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। কিছুক্ষণ পর দু-একজন উপকারভোগী এসে পণ্য সংগ্রহ করেন। বিকেল ৩টা পর্যন্ত মাত্র ৩৩ জনকে পণ্য নিতে দেখা যায়।
পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারীর কক্ষে টিসিবির পণ্যও মজুত থাকতে দেখা গেছে। তারা জানান, কিছু উপকারভোগী তাদের কার্ড জমা রেখে গেছেন—তারা পরে এসে পণ্য নিয়ে যাবেন। তবে এসময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারকে পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, কলাপাড়া পৌরসভার টিসিবি উপকারভোগী তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। সাবেক মেয়র ও কয়েকজন কাউন্সিলর রাজনৈতিক স্বার্থে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। সেই পুরোনো তালিকা দিয়েই এখনও টিসিবির কার্যক্রম চলছে।
তথ্য অনুযায়ী, কলাপাড়া পৌরসভায় টিসিবির তালিকাভুক্ত উপকারভোগীর সংখ্যা ১,৭৭০ জন। এর মধ্যে মাত্র ৩২০ জনের ফ্যামিলি কার্ড সক্রিয় রয়েছে। বাকি কার্ডগুলো এখনও নিষ্ক্রিয়। প্রতিমাসে একজন উপকারভোগী ৫ কেজি চাল, ২ লিটার তেল, ২ কেজি ডাল ও ১ কেজি চিনি কিনতে পারেন ৫৪০ টাকার প্যাকেজ মূল্যে।
টিসিবি ডিলাররা নিয়মিত ট্রাকভর্তি পণ্য পৌরসভায় আনলেও অধিকাংশ পণ্য ফেরত নিয়ে যেতে হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, ফেরত পণ্য নিয়ে কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে গোপন সখ্যতার মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তবে ডিলাররা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
টিসিবি ডিলার শাওন শামসুদ্দোহা ট্রেডিংয়ের কর্ণধার মো. শাওন বলেন, “আজ বিকেল চারটা পর্যন্ত ১১০ জন উপকারভোগী পণ্য সংগ্রহ করেছেন। যাদের কার্ড অ্যাক্টিভ নয়, তাদের পণ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফেরত পণ্য টিসিবি গুদামে জমা রাখা হবে।”
এ বিষয়ে কলাপাড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাব্যলাল চক্রবর্তী বলেন, “পৌরসভার টিসিবি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে আছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওয়ালি উল্লাহ। বিষয়টি তিনি ভালো জানেন।”
অন্যদিকে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. কাউছার হামিদ জানান, “আমি বর্তমানে সরকারি প্রশিক্ষণে গোপালগঞ্জে আছি। তবে টিসিবির কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি।”