কলাপাড়ায় প্রকাশিত একটি সংবাদকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চারটি হিন্দু পরিবারের সদস্যরা। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলাপাড়া উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ সিকদার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৯ জুলাই বিভিন্ন স্থানীয় ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদারকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সংবাদে প্রকৃত ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দেবাশীষ সিকদার জানান, তাদের পরিবারের সঙ্গে খোকন মন্ডলের দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। তার অভিযোগ, খোকন মন্ডল ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একাধিক মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১০ জুলাই ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে গেলে খোকন মন্ডল, তার ভাই ও সহযোগীরা প্রকাশ্যে তার ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে এবং পরদিন ১১ জুলাই অভিযান চালিয়ে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকানা, রেকর্ড, পূর্ববর্তী না-দাবি (রিলিজ) দলিল, মিউটেশন, বিএস জরিপ এবং আদালতে চলমান মামলার বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করা হয়। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে কলাপাড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দায়ের করা মামলায় ১৭ জুন ২০২৫ তারিখে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। কিন্তু সেই আদেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষ বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চলমান বিরোধের কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেবাশীষ সিকদারসহ পূর্ণচন্দ্র হাওলাদার পরিবারের চারটি পরিবারের সদস্য ও উত্তরাধিকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিক্রিয়া জানতে অভিযুক্ত খোকন মন্ডলের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।