পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দর থেকে বালিয়াতলী সেতু পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বাইরের কোটি কোটি টাকার খাস জমি বেহাত হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুসারে অন্তত ৩০ বিঘা খাস জমি বেহাতের আশঙ্কা করছেন তারা। আন্ধারমানিক নদীর তীরসহ এসব জমি দখল করে কেউ চাষাবাদ করছেন। কেউ মাছ চাষ করছেন। কেউবা ইটভাঁটি করেছেন। পায়রা বন্দরকে ঘিরে এই জমির গুরুত্ব বহুগুণে বেড়ে গেছে। তাই বিভিন্ন কোম্পানিসহ ব্যক্তি পর্যায়ের মানুষ সরকারের খাস জমি দখলে নেমেছে। কেউবা আবার সরকারের খাসজমি একসনা ভিত্তিতে লিজ দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। টিয়াখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উদাসীনতায় সরকারের কোটি কোটি টাকার খাস জমি স্থায়ীভাবে বেহাত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, বালিয়াতলী সেতু থেকে পায়রা বন্দর গেট পর্যন্ত অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে সরকারের এই খাস জমি দখল প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সেতুর উত্তর দিকে প্রায় এক শ’ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ করছেন কতিপয় কৃষক। এদের একজন জাহাঙ্গীর হোসেন জানালেন, তাঁরা ছয় জনে ৪৮ বিঘা জমিতে এ বছর তরমুজের আবাদ করছেন। প্রতি আট বিঘা অর্থাৎ এক কানি (দুই একর ৬৬ শতাংশ) জমিতে একসনা ভিত্তিতে ৬০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। এই প্রজেক্টের উত্তর দিকে এভাবে আরো অন্তত ৫০ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ চলছে। বর্ষা মৌসুমে আন্ধারমানিক নদী তীরের এই জমিতে জোয়ারের পানি ওঠে। নদী তীর ঘেষা এই জমির একটা বড় অংশ সরকারি খাস বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। বেড়িবাঁধের বাইরে খাস পুকুর রয়েছে। ম্যানগ্রোভ প্রজাতির কিছু কিছু বনাঞ্চল রয়েছে। পানি প্রবাহের ছোট্ট খাল রয়েছে। সব বন্ধ কিংবা নষ্ট করা হচ্ছে। পরিণত করা হচ্ছে জমিতে। এসব এলাকার অধিকাংশ রেকর্ডিয় ব্যক্তিগত জমি এলাকার বাইরের কয়েকটা কোম্পানি কিনে নিয়েছে। এখন ওই মহলটি সরকারের খাস জমি, নদীতীরের প্লাবনভূমিসহ বিপুল পরিমাণ খাস জমি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ভূমি অফিসের নীরবতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূল্যমানের এই জমি বেহাত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।স্থানীয় বাসীন্দা ফোরকান হাওলাদার জানান, বালিয়াতলী ব্রিজ থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০ বিঘা খাস জমি রয়েছে। এখন এই জমি সরকার উদ্ধার না করলে হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার দাবি যে যার মতো করে দখল করছে খাস জমি। পরিবেশ কর্মী নজরুল ইসলাম জানান, আন্ধারমানিক নদী তীরের এই জমিতে প্রাকৃতিকভাবে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের খাস এরিয়া চিহ্নিত করে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। নইলে সরকার কয়েক কোটি টাকার খাস জমি বেহাত হবে।সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, তিনি খাস জমি চিহ্নিত করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিপূর্বে কিছু খাস জমি শণাক্ত করে লাল পতাকা দেওয়া হয়েছে। কোন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান কারো সরকারি খাস জমি দখলের সুযোগ নাই।