আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনে যুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রাশিয়ার ওপর নতুন করে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে একযোগে কয়েক শ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এবারই প্রথমবারের মতো এত বিশাল আকারের আক্রমণ চালানো হয়েছে। তারা জানিয়েছে, রাশিয়া অন্তত ৮১০টি ড্রোন ও ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং রাজধানী কিয়েভে একাধিক সরকারি ভবনে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো ইউক্রেনের মন্ত্রিপরিষদ ভবনে হামলা, যা সাড়ে তিন বছর ধরে চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো ঘটল।
ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,
“আমি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নই। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”
তিনি জানান, প্রয়োজনে মস্কোর ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন,
“আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে আরও কড়া প্রতিক্রিয়া আশা করছি।”
জেলেনস্কির মতে, সাম্প্রতিক হামলা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করছে।
গত ১৫ আগস্ট রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠকে বসেন। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বৈঠক ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানে সহায়ক হবে। তবে বৈঠকের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে গেছে। বরং, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অভূতপূর্ব মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন,
“রাশিয়া নিজেকে যুদ্ধ ও সন্ত্রাসের চক্রের আরও গভীরে আবদ্ধ করে ফেলছে।”
অন্যদিকে, রাশিয়া বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের টার্গেট ছিল কেবল কিয়েভের একটি কারখানা ও সরবরাহ কেন্দ্র। তারা বলেছে,
“কিয়েভের সীমানার মধ্যে অন্য কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়নি।”
রোববার রাত পর্যন্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বহু বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলমান।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে আরও তীব্র ও জটিল রূপ নিতে যাচ্ছে।